Thursday, July 19, 2018

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে রোজ রাতে ১ কাপ ‘জাফরান দুধ’


প্রকৃতির এক অনবদ্য সৃষ্টি হচ্ছে জাফরান। অনেকে যদিও একে মশলা বা রঙ হিসেবে চেনেন, কিন্তু বাস্তবে জাফরান হচ্ছে ফুলের পরাগ রেনু। জাফরানের কোন গুঁড়ো হয় না। ভালো মানের জাফরানে মিষ্টি সুগন্ধ থাকে, দানাগুলো হয় সরু ও লম্বা লম্বা। খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতে জাফরান বহুল ব্যবহৃত হলেও সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যরক্ষাতেও এটি সমান কার্যকরী। প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস জাফরান দুধ পান করলে তা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি চমৎকার ঘুম আনতেও সহায়তা করে থাকে। নিদ্রাহীনতা ও ঠাণ্ডা-কাশির সময়ে দারুণ সহায়ক হতে পারে এক গ্লাস উষ্ণ জাফরান দুধ।

জাফরানে আছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, আয়রন, ভিটামিন সি সহ প্রায় ১৫০টি উপাদান যা সহজেই শরীরের উপকারে আসে। এই দারুণ জাফরান দুধের সাথে মেশানো হলে তা হজমশক্তিকে উন্নত করে, ত্বকের রঙ ফর্সা করে, ত্বক উজ্জ্বল ও কোমল করে, চুলকে করে তোলে ঝলমলে, ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে। তবে হ্যাঁ, জাফরান কেবল খেলে বা পান করলেই হবে না, সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে জাফরান পান করার আছে কিছু বিশেষ নিয়ম। এই নিয়ম মেনে পান করলে আপনি পাবেন জাফরানের সবটুকু উপকারিতা।

চলুন, জেনে নিই বিস্তারিত।


যা লাগবে

  • গরুর দুধ ১ কাপ (গুঁড়ো দুধ নয়)
  • জাফরান দানা ১ চিমটি (আসল ইরানি জাফরান)
  • ১ চামচ কিসমিস বাটা বা আস্ত কিসমিস (না দিলেও হবে)
  • ১ চা চামচ অরগানিক মধু

প্রনালি

  • চুলায় আগে থেকে ফুটিয়ে রাখা দুধ দিন। বেশি ঘন দুধ নেবেন না।
  • দুধের মাঝে জাফরান দিয়ে দিন। ২ মিনিট ফুটিয়ে চুলো বন্ধ করে দিন।
  • এর মাসে কিসমিস বাটা বা আস্ত কিসমিস দিয়ে দিন। কিসমিস মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্য খুব ভালো।
  • কিসমিস দিয়ে চুলোর ওপরেই দুধে ঢাকনা দিয়ে রাখুন ৫ মিনিট।
  • কুসুম কুসুম গরম হলে কাঁচের বা সিরামকের কাপে ঢেলে নিন। মধু মিশিয়ে চায়ের মত পান করুন।

টিপস

  • জাফরান দেখে শুনে ক্রয় করুন। অল্প দাম খুঁজতে গিয়ে ভেজাল কিনবেন না।
  • দুধ ঠাণ্ডা হবার আগেই পান করুন।
  • প্রচুর পানি পান করুন।
  • ডায়াবেটিসের রোগী হলে কিসমিস ও মধু বাদ দিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে লবণ বা এমন কিছু যোগ করবেন না।


রেসিপিটি প্রকাশিত হয়,  ১২ জুলাই ২০১৮
প্রিয়.কম

Wednesday, July 18, 2018

রসুনের আচার তৈরির রেসিপি


নানা রকম আচারই তো বানানো হয়, মাঝেমাঝে একটু ব্যতিক্রমও করতে পারে। তৈরি করতে পারেন রসুনের আচার। এটি গরম ভাত, খিচুড়ি, পোলাও ইত্যাদির সঙ্গে খেতে ভালো লাগবে। রইলো রেসিপি-

উপকরণ: রসুন ১.৫-২ কেজি, সরিষাবাটা ১ কাপ, আদাবাটা ৩ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন ৩ চামচ বা পরিমাণ মতো, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ করে, ভিনেগার বা লেবুর রস ২ কাপ, সরিষার তেল পরিমাণ মতো, চিনি-স্বাদমতো, লবণ পরিমাণমতো।

প্রণালি: সরিষা ও আদা বাটা লেবুর রস বা ভিনেগার দিয়ে গুলিয়ে একটি পাত্রে রেখে দিন। তারপর চুলায় কড়াই বা ফ্রাইপেনে সরিষার তেল দিন। তেল গরম হলে পাচ ফোড়ন দিন। পাঁচ ফোড়ন দেয়ার পর তুলার আঁচ কমিয়ে দিন। এরপর আদা ও সরিষা বাটা, হলুদ-মরিচের গুঁড়া তেলে ঢেলে দিন এবং নাড়তে থাকুন। ভালোভাবে পেস্টটি মিশে গেলে রসুনগুলো ঢেলে দিয়ে আঁচ বাড়িয়ে নাড়তে থাকুন। তেল ও মসলা ফুটে এলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। রসুন সিদ্ধ হয়ে এলে আঁচ কমিয়ে দিন। স্বাদমতো চিনি ও লবণ দিয়ে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন যাতে তেতে না যায়। ঝোল শুকিয়ে এলে তেল ছেড়ে দেবে। তেল ছাড়ার ২ মিনিট পর নামিয়ে ফেলুন। এরপর আচার ঠান্ডা হলে কাঁচের পাত্রে আচার রেখে দিন।

রেসিপিটি প্রকাশিত হয়, ১৬ জুলাই ২০১৮
জাগোনিউজ২৪.কম

মাত্র ১০ মিনিটে তৈরি করে নিন আসল স্বাদের ‘নেহারি মশলা’!


গরম গরম রুটি-পরোটার সাথে নেহারি বা পায়া অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। ঘরে এই খাবারটি তৈরি একটু ঝামেলার বিধায় সাধারণত কিনেই খাওয়া হয় বেশি, তাই না? আজ সুমনা সুমি জানাচ্ছেন এমন একটি রেসিপি, যা আপনার নেহারি রান্নাকে করে দেবে খুবই সহজ। একবার মশলাটি তৈরি করলে ঘরে রাখা যাবে বেশ কয়েক মাস। পায়া বা নেহারি রান্নার সময় স্বাদ অনুযায়ী ব্যবহার করে নিলেই হবে। আর উপকরণ? সেটাও খুব বেশি কিছু নয়! চলুন, রেসিপিটি জেনে নিই।

উপকরণ

  • আস্ত শুকনো মরিচ ৫/৬ টি
  • মৌরি ২ টেবিল চামচ
  • জিরা ২ টেবিল চামচ
  • আস্ত ধনে ২ টেবিল চামচ
  • সবুজ এলাচ ৪/৫ টি
  • কালো এলাচ ২ টি
  • লং ৩/৪ টি
  • জায়ফল অর্ধেকটি
  • জয়ত্রী ১/৪ চা চামচ
  • কালো গোলমরিচ ১ টেবিল চামচ
  • তেজপাতা ২/১ টি
  • দারুচিনি টুকরো ২ টি
  • শাহী জিরা ১ চা চামচ
  • গুঁড়ো মশলা (হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ+ গরম মশলা গুঁড়ো ১ চা চামচ+ কাশ্মিরি
  • চিলি পাউডার ১ চা চামচ)

প্রনালি

  • সমস্ত উপাদান একটি ননস্টিক প্যানে নিয়ে নিন। হালচে আঁচে টেলে নিন কিছুক্ষণ।
  • কোন মশলাই কিন্তু পুড়বে না। পুড়লে তেতো হয়ে যাবে। ক্রমাগত নাড়তে থাকুন।
  • টালা হলে একটি প্লেটে ঢেলে ঠাণ্ডা করে নিন। তারপর মিহি গুঁড়ো করে নিন।
  • একবার এই মশলা তৈরি করে বেশ কয়েকমাস ঘরে রাখা যায়। এয়ার টাইট বয়ামে সংরক্ষণ করুন। ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই।
  • নেহারি/ পায়া তৈরির সময়ে স্বাদ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। আর এই মশলা দিয়ে নেহারি তৈরি রেসিপি জানতে চোখ রাখুন আমাদের পেজে।


রেসিপিটি প্রকাশিত হয়, ১৭ জুলাই ২০১৮
প্রিয়.কম

ব্যথা কমায় টক দই


টক দইয়ের গুণের শেষ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে নিয়মিত টক দই খাওয়া উচিত। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি শরীরের যেকোন ধরনের প্রদাহ কমাতে যেমন সাহায্য করে,তেমনি ত্বক সজীব রাখতেও কার্যকরী। অনেকেরই হয়তো জানা নেই,ব্যথা বা যন্ত্রণা কমাতেও টক দই খুব উপকারী।

পা মচকে গেলে বা শরীরের কোথাও ব্যথা পেলে বেশিরভাগ সময়ই সবাই আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে বরফ,চুন-হলুদ লাগান কিংবা ব্যথানাশক ওষুধ খান। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, ব্যথা কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হল খাবার পর এক বাটি টক দই খেয়ে নেওয়া ৷গবেষকরা বলছেন, টক দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যথা বা যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে ৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, দইয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া এন্ডোটক্সিন তৈরি করে ৷ পাশাপাশি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। সেই সঙ্গে শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়ায় বা ঠিক রাখে ৷ এটি পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া কমাতে বা হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে ৷ এছাড়া টক দইয়ে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকার কারণে হাড় ও দাঁত মজবুত করতে এটি সাহায্য করে।

সূত্রঃ সমকাল

স্বল্প মশলায় দারুণ সুস্বাদু আফগানি চিকেন


কাবাব খেতে ভালোবাসেন? তাহলে সুমনা সুমির আজকের রেসিপিটি আপনারই জন্য। স্মোকি ফ্লেভারে ভরপুর এই খাবারটি তৈরি করা যাবে সাধারণ চুলাতেই। মশলা প্রয়োজন হবে খুব অল্প, কিন্তু স্বাদের জাদুতে মুগ্ধ করবে সবাইকে। রুটি, পরোটা, নানের সাথে তো চলবেই। ভালো লাগবে ফ্রাইড রাইস, ভাত কিংবা পোলাওয়ের সাথেও।

উপকরণ

  • মুরগি ১টি (মাঝারি আকারে কেটে ধুয়ে নেয়া)
  • পেঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ
  • আদা ও রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ করে
  • কাঠ ও কাজু বাদাম বাটা মিলিয়ে ১/৪ কাপ
  • টক দই ১/২ কাপ
  • ফ্রেশ ক্রিম ১ কাপ
  • লবণ পরিমাণমত
  • কালো গোলমরিচ গুঁড়ো ও জিরা গুঁড়ো ১ চা চামচ করে
  • কাঁচামরিচ ৩-৪ টি
  • কাসুরি মেথি গুঁড়ো (শুকনো মেথি পাতা) ১ টেবিল চামচ
  • গরম মশলা গুঁড়ো ২ চা চামচ (আস্ত গরম মশলা হালকা টেলে বাসায় গুঁড়ো
  • করে নিলে ভাল হবে)
  • তেল ১/৪ কাপ + মাখন বা ঘি ২ টেবিল চামচ
  • ফ্লেভারের জন্য লাগবে


কয়লা

  • ঘি ১ চা চামচ
  • প্রনালি


-দই, ক্রিম ও কাঁচামরিচ একসাথে মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।

-একটি পাত্রে এই মিস্রনের সাথে আদা-রসুন বাটা, বাদাম বাটা, লবণ ও সব গুঁড়ো মশলা মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রনে মুরগীর টুকরোগূলো দিয়ে মেরিনেট করে রাখুন।

-কয়লা গরম করে নিন। গরম কয়লা ফয়েলে নিয়ে মেরিনেট করা মুরগির পাত্রে রাখুন। কয়লার উপরে ঘি দিয়ে পাত্রটি একদম ঢেকে দিন। ১ ঘন্টা এভাবে মেরিনেট করে রাখুন।

-প্যানে তেল দিয়ে মেরিনেট করা মুরগী থেকে মাংসগুলো তুলে প্যানে দিন।মেরিনেশনের মশলা ফেলবেন না।

-মাঝারি আঁচে রান্না করুন।পানি শুকিয়ে গেলে মুরগির তুলে পাত্রে রাখুন।

-এখন একই প্যানে ঘি ও মেরিনেশনের মশলা দিয়ে ভাল করে কষিয়ে নিন। মশলা থেকে তেল বের হলে মাংস আবার মশলায় দিয়ে মিশিয়ে নিন। অল্প আঁচে কিছুক্ষন রেখে চুলা বন্ধ করুন।

পরিবেশন করুন গরম গরম।

রেসিপিটি প্রকাশিত হয়, ১১ জুলাই ২০১৮
প্রিয়.কম

Tuesday, July 17, 2018

বেসনের দই বড়া


সকালে অথবা দুপুরের খাবারের পর অথবা পড়ন্ত বিকেলে- যেসময়ই হোক না কেনো, বেসনের দই বড়া কিন্তু খেতে পারেন সবসময়। মজাদার এবং নতুনত্বের ছোঁয়ায় এই খাবারের আইটেমটি ডেজার্ট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। বিশিষ্ট রাঁধুনী ফাহা হোসাইনের রেসিপি থেকে চলুন জেনে নেই কীভাবে বানাবেন বেসনের দই বড়া।

বানাতে যা লাগবে
বেসন ১/২ কাপ, কাঁচামরিচ কুচি ১/২ চা চামচ, টক দই ১ কাপ, চিনি ১ চা চামচ, বিট লবণ ১/৩ চা চামচ, তেঁতুলের সস ১ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচের সস ১ চা চামচ, চাট মসলা ১/২ চা চামচ, পুদিনা কুচি ১ চা চামচ, সানফ্লাওয়ার তেল ১ কাপ।

যেভাবে বানাবেন
প্রথমে বেসনের সাথে কাঁচামরিচের মিহি কুচি মাখিয়ে অল্প অল্প পানি দিয়ে খুব ঘন করে একটা পেস্ট, বানিয়ে রাখুন ৩০ মিনিটের জন্য। এবার প্যানে তেল গরম করে ২টা চা চামচের সাহায্যে অল্প অল্প, বেসনের বেটার নিয়ে গোলা পাকিয়ে তেলে ভাজুন মাঝারি আঁচে। বড়া ফুলে উপরে উঠে আসলে বাদামি হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। এবার টক দই ভালো করে ফেটিয়ে নিন। টক দই-এর সাথে চিনি মিশিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন।

পরিবেশনের বাটিতে বেসনের বড়াগুলো দিয়ে এর উপর টক দই এবং চিনির ফেটানো মিশ্রণ ঢেলে দিন। এবার তার উপর একে একে বিট লবণ, তেঁতুলের সস, কাঁচামরিচের সস, চাট মসলা এবং পুদিনা কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

রেসিপিটি প্রকাশিত হয়, ১৬ জুলাই ২০১৮

বেগুনের ঝাল মসলার চাটনি


উপকরণ

ছোট আকারের বেগুন ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, আখের গুড় সিকি কাপ, তেঁতুলের ক্বাথ সিকি কাপ, লবণ স্বাদমতো, ভাজা পাঁচফোড়ন গুঁড়া ১ চা-চামচ, সরিষার তেল আধা কাপ, জিরা ১ চা-চামচ, মেথি আধা চা-চামচ, মৌরি ১ চা-চামচ ও শুকনা মরিচ ৬টি।

প্রণালি

জিরা, মেথি, মৌরি ও শুকনা মরিচ হালকা টেলে গুঁড়া করে নিন। তেঁতুল ভিজিয়ে রেখে ঘন ক্বাথ বা মাড় বের করে নিন। বেগুন মাথার কাছে জোড়া রেখে লম্বা ৪ ফালি করে কাটুন। অল্প পানিতে বেগুন আধা সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। পেঁয়াজ হালকা বাদামি রং হয়ে এলে তাতে বেগুন ও লবণ দিয়ে ভাজুন। বেগুনের রং পরিবর্তন হলে তাতে তেঁতুলের মাড়, পাঁচফোড়নের গুঁড়া ও গুড় দিয়ে মৃদু আঁচে ঢেকে রান্না করুন।

সূত্রঃ প্রথম আলো