আজকাল সময়টা এমন এসেছে যে সকলকেই টুকটাক রান্না জেনে রাখতে হয়। অতীতে রান্নাঘরটা ছিল কেবলই গৃহিণীদের দখলে, মা কিংবা নানী-দাদীরা মিলেই সামাল দিতেন হেঁসেলের যত ঝক্কি। কিন্তু এখন সময় ভিন্ন। জীবনের প্রয়োজনে একা থাকাটা এখন কোন ব্যাপারই নয়। রেস্তোরাঁয় আর কাহাতক খাওয়া যায়? একা থাকতে হলে তাই রান্নাটা একটু হলেও জেনে রাখা চাই!
নতুন বিয়ে হয়েছে কিংবা ব্যাচেলর জীবন কাটাচ্ছেন? আজকের এই রেসিপিটি তাহলে আপনার খুব কাজে আসবে। ঝামেলা ছাড়াই যারা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর রান্না করতে চান, তারাও একবার পড়ে দেখতে পারেন। গরম গরম ভাতের সাথে এই একটি তরকারি হলে অন্য কিছু রাঁধার দরকার পড়বে না। সময় যেমন বাঁচবে, শ্রমও বাঁচবে বৈকি।
আমরা আজ রাঁধবো শীতের সবজি দিয়ে কই মাছের ঝোল। কই মাছটা বেছে নিচ্ছি কারণ এটা বাজারে খুব সহজেই সুলভ মূল্যে মেলে। বাজার থেকেই কুটে আনা যায় ফলে বাড়িতে ঝামেলা কম। এই মাছ ধুতেও তেমন কোন কষ্ট নেই। চলুন তাহলে শিখে নিই রেসিপি।
যা লাগবে
দেশি কই মাছ ৪/৫ টি
পেঁয়াজ বাটা বা কুচি দেড় টেবিল চামচ
নতুন আলু ২ টি (লম্বা ফালি করে কাটা)
শিম ৮/১০ টি বা ইচ্ছামত (দুভাগ করে নেয়া)
টমেটো দুটি (চার টুকরো করে কাটা)
ধনে পাতা ও কাঁচা মরিচ স্বাদ অনুযায়ী
লবণ স্বাদ অনুযায়ী
হলুদ গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ
মরিচ গুঁড়ো আধা চা চামচ
জিরা গুঁড়ো আধা চা চামচ
তেল সামান্য
প্রণালি
- কড়াইতে তেল দিয়ে বাটা পেঁয়াজ দিয়ে দিন। যদি বাড়িতে রসুন বাটা থাকে, তাহলে ১/৪ চা চামচ দিয়ে দিতে পারেন, না দিলেও কোন সমস্যা নেই।
-পেঁয়াজ ও রসুন বাটা দিয়ে একে একে হলুদ-মরিচ গুঁড়ো ও লবণ দিয়ে দিন। আধা কাপ পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে বেশ খানিকটা সময় কষিয়ে নিন।
-মশলা কষে তেলের ওপরে উঠলে আলুগুলো দিয়ে দিন এবং কিছুটা সময় কষিয়ে নিন। কারণ আলু রান্না হতে সময় বেশি লাগে।
-আলু আধা সেদ্ধ হয়ে গেলে মাছগুলো দিয়ে দিন। একটু নেড়েচেড়ে শিমগুলো দিয়ে দিন। এক মিনিট কষিয়ে ২ থেকে ৩ কাপ পানি দিয়ে ঝোল দিন। বেশ ভালো আঁচেই রান্না হতে দিন।
-৪/৫ মিনিটের মাঝেই মাছ রান্না হয়ে যাবে।এবার আঁচ একটু কমিয়ে দিন।
-ভাজা জিরার গুঁড়ো ও ধনিয়া পাতা ছিটিয়ে দিন। কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন। চুলো নিভিয়ে ঢেকে রাখুন ১০ মিনিট।
গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন মজাদার কই মাছের ঝোল।
রেসিপিটি প্রকাশিত হয়, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮